
Introduction: WBP Constable History MCQ 2025:
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (WBP) কনস্টেবল পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর পরীক্ষায় ভারতের প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিক ইতিহাস থেকে একাধিক প্রশ্ন আসে। তাই ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় ভালোভাবে জানা খুব প্রয়োজন। এই “WBP Constable History MCQ 2025” সেটটিতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে পরীক্ষার্থীরা সহজে পুনরাভ্যাস করতে পারে। wbp constable History Questions 2025 ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ব্রিটিশ শাসনকাল, সামাজিক সংস্কার আন্দোলন এবং বাংলার নবজাগরণ—সবকিছুর উপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রশ্নগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তুমি নিশ্চিতভাবে ভালো নম্বর অর্জন করতে পারবে।
Q1. বিখ্যাত “History of British India” বইটি কার লেখা?
- (A) চার্লস গ্রান্ট
- (B) জন স্টুয়ার্ট মিল
- (C) জেমস মিল
- (D) উইলিয়াম জোন্স
সঠিক উত্তর (B) জন স্টুয়ার্ট মিল
বিখ্যাত “History of British India” বইটির রচয়িতা ছিলেন স্কটিশ ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ও দার্শনিক জেমস মিল (James Mill)। এই তিন-খণ্ডের গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮১৭ সালে।
জেমস মিল এই বইয়ে ভারতীয় ইতিহাসকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন—হিন্দু শাসন, মুসলিম শাসন এবং ব্রিটিশ শাসন। এর মাধ্যমে তিনি ঐ সময়ের ইতিহাস বিশ্লেষণে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছিলেন। যদিও তিনি নিজে কখনো ভারতে যাননি এবং স্থানীয় ভাষা জানতেন না, তবুও এই গ্রন্থটি ব্রিটিশ ভারতের শাসনব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব এবং পর্যবেক্ষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।
Q2. ভারতের কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান 1920 খ্রিস্টাব্দে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “স্বরাজ্য সভা”?
- (A) অল ইন্ডিয়া হোমরুল লিগ
- (B) হিন্দু মহাসভা
- (C) সাউথ ইন্ডিয়ান লিবারাল ফেডারেশন
- (D) দ্যা সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি
সঠিক উত্তর (A) অল ইন্ডিয়া হোমরুল লিগ
১৯২০ সালে ভারতের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া হোম রুল লীগ (All India Home Rule League) তার নাম পরিবর্তন করে “স্বরাজ্য সভা” রাখে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা বা স্বরাজ অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা।
ওই সময় মহাত্মা গান্ধীকে এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে ধীরে ধীরে একীভূত হয়ে যায়।
স্বরাজ্য সভা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার প্রতি চেতনা বৃদ্ধি করেছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য মৌলিক রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। এটি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Q3. আচার্য বিনোভা ভাবে ভারতের কোথায় প্রথম ভুদান আন্দোলন শুরু করেন?
- (A) উদয়গিরি
- (B) রায়পুর
- (C) পোচামপল্লী
- (D) ভেঙ্কটগিরি
সঠিক উত্তর (C) পোচামপল্লী
আচার্য বিনোভা ভাৱে ভারতের প্রথম ভূদান আন্দোলন শুরু করেন তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার পোচামপল্লী গ্রামে। এই আন্দোলন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১৮ এপ্রিল।
তিনি জমিদারদের কাছে আবেদন করেন দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের জন্য জমি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। জমি সংগ্রহের পর তা দরিদ্র মানুষের মধ্যে বণ্টন করা শুরু করা হয়। এই আন্দোলন ভারতীয় সমাজে অধিকার ও সম্পদের সমান বণ্টনের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বিনোভা ভাৱে অহিংস পদ্ধতিতে সমাজ সংস্কারের পথপ্রদর্শক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

Q4. ভারতের কোন গ্রামটি “দ্যা ভিলেজ অফ ন্যাশনাল ফ্লাগ” নামে পরিচিত?
- (A) বেঙ্গেরি
- (B) হুবলি
- (C) উটি
- (D) নবোদয়
সঠিক উত্তর (A) বেঙ্গেরি
কর্ণাটকের বেঙ্গেরি গ্রাম হুবলি শহরের কাছে অবস্থিত। ভারতের “The Village of National Flag” নামে পরিচিত। এটি একমাত্র গ্রাম যেখানে জাতীয় পতাকা তৈরি করার অনুমতি আছে। এখানে অবস্থিত “কর্ণাটক খাদী গ্রামোদ্যোগ সম্মিলিত সংঘ”(KKGSS) ইউনিট ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া অনুযায়ী হাতে তৈরি করে জাতীয় পতাকা। এই পতাকাগুলি ব্যবহার করা হয় সরকারি অফিস, দূতাবাস এবং স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্র দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে।
Q5. কোন ভাইসরয়ের সময়ে “হোয়াইট মিউটিনী” ঘটেছিল ?
- (A) লর্ড কার্জন
- (B) লর্ড মিন্টো
- (C) লর্ড রিপন
- (D) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর (C) লর্ড রিপন
হোয়াইট মিউটিনি ১৮৮৩ সালে ঘটেছিল লর্ড রিপনের ভাইসরয়ের সময়ে। এটি ব্রিটিশ প্রশাসনিক অফিসারদের মধ্যে অসন্তোষ থেকে শুরু হয়, যারা তখন সরকারের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত ছিলেন। বিদ্রোহের নামকরণ করা হয়েছিল “হোয়াইট” পোশাক পরা অফিসারদের কারণে। এই ঘটনা ভারতীয় ইতিহাসে প্রশাসনিক অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Q6. ভারতের সিপাহী বিদ্রোহের ঠিক পরেই কোন বিখ্যাত বিদ্রোহ ইউরোপের মাটিতে ঘটেছিল 1858 খ্রিস্টাব্দে?
- (A) রয়াল রিভেলিয়ান
- (B) হোয়াইট মিউটিনী
- (C) তেভাগা মুভমেন্ট
- (D) গোদান মুভমেন্ট
সঠিক উত্তর (B) হোয়াইট মিউটিনী
ভারতের সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭–৫৮) শেষ হওয়ার পরপরই ইউরোপীয় সৈন্যদের মধ্যে “সাদা বিদ্রোহ” (White Mutiny) নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে। এই বিদ্রোহটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইউরোপীয় সৈন্যদের অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত হয়।
সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিলুপ্ত করে এবং তাদের সেনাদের রাজকীয় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সৈন্যরা নিজেদের মর্যাদা ও সুবিধা হারানোর আশঙ্কা করে বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। তবে এই বিদ্রোহ রক্তপাতহীনভাবে দমন করা হয়।
Q7. কোন ইংরেজ সর্ব-প্রথম “ভাগবত গীতা” ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?
- (A) উইলিয়াম জোন্স
- (B) চার্লস উইলকিন্স
- (C) জন মার্শাল
- (D) আলেক্সান্ডার কানিংঘাম
সঠিক উত্তর (B) চার্লস উইলকিন্স
“ভাগবত গীতা” সর্বপ্রথম ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন স্যার চার্লস উইলকিন্স। তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ মুদ্রাক্ষর নির্মাতা, সংস্কৃতজ্ঞ এবং ওরিয়েন্টালিস্ট। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি “Bhagvat Geeta or the Dialogues of Kreeshna and Arjoon” নামে এই অনুবাদটি প্রকাশ করেন।
এই অনুবাদটির ভূমিকাটি লিখেছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস। এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ। পরবর্তীতে গীতা জার্মান, ফরাসি ও রুশ ভাষায় অনুবাদিত হয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ভারতীয় দর্শনের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
Q8. ভারতের কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী “বহিষ্কৃত ভারত” নামে একটি পত্রিকা শুরু করেন?
- (A) বাল গঙ্গাধর তিলক
- (B) বি আর আম্বেদকর
- (C) বি ডি সাভারকর
- (D) গোপাল কৃষ্ণ গোখেল
সঠিক উত্তর (B) বি আর আম্বেদকর
“বহিষ্কৃত ভারত” নামে পত্রিকাটি মারাঠি ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন ডাঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর। এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ৩ এপ্রিল, ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে। এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল সমাজের নিপীড়িত ও বঞ্চিত শ্রেণির মানুষদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
স্যার আম্বেদকর এই পত্রিকার মাধ্যমে জাতিভেদ, পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর চড়ান। “বহিষ্কৃত ভারত” পত্রিকাটি সমাজে সমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এক জোরালো আহ্বান দিয়েছিল। এটি ভারতের সামাজ সংস্কার আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

Q9. ভারতের কোন শ্রেণীর ও স্তরের শিক্ষার উন্নতির জন্য “হান্টার কমিশন” নিয়োগ করা হয়?
- (A) গার্ল্স এডুকেশন
- (B) হায়ার এডুকেশন
- (C) প্রাইমারী এডুকেশন
- (D) টেক্নিক্যাল এডুকেশন
সঠিক উত্তর (C) প্রাইমারী এডুকেশন
আধুনিক ভারতে শিক্ষার শোচনীয় অবস্থা দেখে গোটা বিশ্ব চমকে গিয়েছিল। একটা সময় ভারত সারা পৃথিবীর শিক্ষার কেন্দ্র বিন্দু ছিল । বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক পন্ডিত ব্যাক্তি ভারতের সাহিত্য দর্শন চিত্র কলা ও গবেষণা করতে আসতো। তাই ব্রিটিশ সরকার শিক্ষার এই বেহাল দশা দুরকরার জন্য দারুন উদ্যেগ নেয়। ভারতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি এবং প্রসার নিশ্চিত করার জন্য ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে “হান্টার কমিশন” গঠন করা হয়। এটি গঠিত হয়েছিল লর্ড রিপনের নেতৃত্বে এবং কমিশনের সভাপতিত্ব করেন স্যার উইলিয়াম হান্টার ।
কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্কুল ও কলেজের শিক্ষার মান যাচাই করা, শিক্ষকের যোগ্যতা ও পাঠ্যপুস্তকের অবস্থার মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ প্রদান করা। হান্টার কমিশনের সুপারিশে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা।
Q10. কত সালে ব্রিটিশ সরকার ইউনিভার্সিটি শিক্ষার উন্নতির জন্য “স্যাডলার কমিশন” নিয়োগ করেন?
- (A) 1919
- (B) 1917
- (C) 1921
- (D) 1896
সঠিক উত্তর (B) 1917
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো সংস্কারের জন্য ব্রিটিশ সরকার “স্যাডলার কমিশন” গঠন করে 1917 খ্রিস্টাব্দে। এই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা, মাদ্রাজ ও বেঙ্গলুরুর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান, পাঠ্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো উন্নত করা । ব্রিটিশ সরকার ধীরে ধীরে গোটা ভারতের আধুনিক উচ্চ শিক্ষার শাখা বিস্তার করা শুরু করে।
কমিশন শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করে, যেমন শিক্ষকের যোগ্যতা বৃদ্ধি, গবেষণার উন্নতি, এবং উচ্চশিক্ষার আধুনিকীকরণ। লর্ড স্যাডলারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কমিশন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হয়।
Q11. ভারতের কোন কবি”পাঞ্জাবের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর” নামে পরিচিত?
- (A) পূর্ণ সিং
- (B) মোহন সিং
- (C) কর্তার সিং ডুগগল
- (D) অমৃতা প্রীতম
সঠিক উত্তর (A) পূর্ণ সিং
পূর্ণ সিং ছিলেন আধুনিক পাঞ্জাবি পাদ্যের জনক। আধুনিক পাঞ্জাবি কবি, গদ্যকার ও আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ। তিনি “পাঞ্জাবের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর সাহিত্যিক কীর্তি মূলত আধ্যাত্মিকতা, মানবিক অনুভূতি এবং প্রেমের গভীরতা প্রকাশ করে। তিনি পাঞ্জাবি ভাষায় কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটক রচনা করেছেন তার সাহিত্যের মান ও ভাবধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। তার লেখা বিখ্যাত কয়েকটি বই হল – The book of ten Masters, Bride of the sky, The Temple Tulips, On paths of life,–
পূর্ণ সিং-এর লেখা পাঠকদের মনের ভাব ও চেতনার গভীরে প্রভাব ফেলে এবং পাঞ্জাবি সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিত। তাঁর অবদান পাঞ্জাবি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
Q12. ভারতের কোন গভর্নর জেনারেল “প্রাচীন স্মৃতিসৌধ” রক্ষার আইন কার্যকর করেন ?
- (A) লর্ড কার্জন
- (B) লর্ড মিন্টো
- (C) লর্ড রিপন
- (D) লর্ড লিনলিথগো
সঠিক উত্তর (A) লর্ড কার্জন
ভারতের “প্রাচীন স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ আইন” কার্যকর করা হয় ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে। তদকালীন ভারতে গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন “প্রাচীন স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ আইন” কার্যকর করেন। এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন স্থাপনা, মন্দির, কেল্লা এবং অন্যান্য স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ করা। যাতে আগামী প্রজন্ম এই গুলি দেখে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমন্ধে অবগত হয়।
লর্ড কার্জন ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর বহু প্রাচীন ভবন, দুর্গ এবং স্থাপত্যকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত রাখে।
Q13. ভারতের জাতীয় আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস নিচের কোন বইটি?
- (A) গীতাঞ্জলি
- (B) আনন্দমঠ
- (C) সতার্থ প্রকাশ
- (D) গীতা রহস্য
সঠিক উত্তর (B) আনন্দমঠ
ভারতের যুব সমাজ একটা সময় দিশেহারা ছিল ঠিক তখন ভারতের জাতীয় আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত “আনন্দমঠ”। এই গ্রন্থে দেশভক্তির উদ্দীপনা এবং স্বাধীনতার আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে। আনন্দমঠ গোটা দেশবাসীকে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার ডাক দিয়েছিল। বিশেষ করে এই বইটির “বন্দেমাতরম্” স্লোগানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূল প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।
আনন্দমঠে দেশের জন্য আত্মত্যাগ, সাহস এবং একতার বার্তা প্রদান করা হয়েছে, যা সমস্ত বাঙালি ও ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনাকে উজ্জীবিত করেছিল। এই কারণে “আনন্দমঠ” ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস।

Q14. কত সালে “মাতৃভাষা সংবাদপত্র আইন” চালু হয়?
- (A) 1870
- (B) 1875
- (C) 1878
- (D) 1880
সঠিক উত্তর (C) 1878
ভারতে এক সময় দেশীয় সংবাদ পত্রের চাহিদা প্রবল ছিল। ব্রিটিশ সরকার সভা সমিতি নিষিদ্ধ করলে দেশীয় সংবাদ পত্রের মাধ্যমে অন্যায় অত্যাচার ও প্রতিবাদ করা হত। কিন্তু সরকার সেটা বুঝতে পেরে গভর্নর লর্ড লিটন “মাতৃভাষা সংবাদপত্র আইন”(Vernacular Press Act) চালু করেন ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে। এই আইন মূলত ভারতীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। আইনের মাধ্যমে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে সরকার-বিরোধী বা বিদ্রোহী মত প্রকাশ করলে কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
এই বিধান দেশীয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর এক গুরুতর ধাক্কা ছিল। এর প্রতিবাদে গোটা দেশ ফেটে পড়েছিল। অনেক আন্দোলনের পরে ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর লর্ড রিপন এই আইন বাতিল করেন। আইনটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিন্দনীয় অধ্যায়।
Q15. কত সালে “প্রতিযোগিতা মূলক সিভিল সার্ভিস” পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হয়?
- (A) 1833
- (B) 1853
- (C) 1858
- (D) 1882
সঠিক উত্তর (B) 1853
গভর্নর জেনারেল লর্ড ড্যালহৌসি ভারতে প্রতিযোগিতা মূলক সিভিল সার্ভিসের পদ্ধতি প্রথমবার চালু করেন ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে। এই আইনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।
চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী সিভিল সার্ভিসে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার মাধ্যমে করা হতো। আইনটি প্রণয়নের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করা এবং যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা। যদিও আইনের অনুমোদন ১৮৫৩ সালে হয়, পরীক্ষার কার্যকর প্রয়োগ শুরু হয় ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে।
Q16. “অমৃত বাজার” পত্রিকার সম্পাদক কে ?
- (A) গিরিশ চন্দ্র ঘোষ
- (B) হরিশচন্দ্র মুখার্জী
- (C) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
- (D) শিশির কুমার ঘোষ
সঠিক উত্তর (D) শিশির কুমার ঘোষ
“অমৃত বাজার” পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন শিশিরকুমার ঘোষ। এই পত্রিকাটি ১৮৬৮ সালে যশোর জেলার মাগুরা থেকে শুরু হয় এবং শিশিরকুমার ঘোষ ও তাঁর ভাই মতিলাল ঘোষ মিলে এটি পরিচালনা করেন।
পরবর্তীতে শিশিরকুমার ঘোষের অবসরের পর তাঁর পুত্র তুষারকান্তি ঘোষ ১৯৩১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত পত্রিকার সম্পাদকত্ব সম্পন্ন করেন। অমৃত বাজার পত্রিকা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নির্বিকার সাংবাদিকতার প্রতীক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল। এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল।
Q17. ভারতের বিখ্যাত “মাদার ইন্ডিয়া” বইটি কে রচনা করেন?
- (A) অ্যানি ব্যসান্ত
- (B) ক্যাথরিন ফ্রাঙ্ক
- (C) ক্যাথরিন ম্যায়ো
- (D) সিস্টার নিবেদিতা
সঠিক উত্তর (C) ক্যাথরিন ম্যায়ো
ভারতের বিখ্যাত “মাদার ইন্ডিয়া” বইটি রচনা করেছেন ক্যাথরিন মায়ো (Katherine Mayo)। ১৯২৭ সালে প্রকাশিত এই বইটি ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি এবং নারীদের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।
এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পক্ষে লেখা একটি বিতর্কিত পুস্তক হিসেবে পরিচিত। ভারতে বইটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং মহাত্মা গান্ধী এটিকে “একজন ড্রেন পরিদর্শকের প্রতিবেদন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
Q18. ভারতের কোন গভর্নর জেনারেল “পোস্টেজ স্টাম্পস” প্রবর্তন করেন?
- (A) লর্ড ডালহৌসি
- (B) লর্ড অকল্যান্ড
- (C) লর্ড ক্যানিং
- (D) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক
সঠিক উত্তর (D) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক
ভারতে প্রথম পোস্টেজ স্টাম্প চালু করেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, যিনি ১৮২৮ থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর-জেনারেল ছিলেন। তিনি ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পোস্টাল সেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ব্রিটিশ শাসনের এই সময় তিনি ভারতের ডাক পরিষৎ গঠন ও উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, যার অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পোস্টেজ স্টাম্প চালু করা হয়। এই পদক্ষেপ ভারতের ডাক ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপসংহার :
ইতিহাস শুধু অতীতের গল্প নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে লুকিয়ে আছে শিক্ষা, প্রেরণা ও অভিজ্ঞতার অমূল্য ভাণ্ডার। Competitive পরীক্ষায় ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ প্রায় সব সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইতিহাসের প্রশ্ন থাকে। ইতিহাস বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্তে আনলে শুধু নম্বর বাড়ে না, পাশাপাশি বিশ্লেষণক্ষমতা ও সাধারণ জ্ঞানও বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়মিত ইতিহাসের MCQ অনুশীলন করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিন। মনে রাখবেন — “যে জাতি তার ইতিহাস জানে, সেই জাতিই ভবিষ্যৎ গড়ে।”



