
Introduction : পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ Constable পরীক্ষার পথে তোমার প্রথম পদক্ষেপ!
স্বপ্ন যদি থাকে পুলিশের পোশাক গায়ে চাপিয়ে সমাজের সেবা করার, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষা তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। এই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া শুধু চাকরি নয়, এটি গর্ব, দায়িত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। super question for wbp constable 2025 প্রতিদিন একটু করে প্রস্তুতি, একটু করে পরিশ্রম — এই ছোট ছোট চেষ্টাগুলোই তোমাকে পৌঁছে দিতে পারে তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। মনে রাখো, “যে লড়াই করে, সে-ই জেতে।” তাই এখনই সময় নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই শুরু করার।
Q1. ভারতের সংবিধান কোন বছর রচিত হয়?
- (A) ১৯৪৭
- (B) ১৯৪৯
- (C) ১৯৫০
- (D) ১৯৫২
সঠিক উত্তর (B) ১৯৪৯
ভারতের সংবিধানের ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর সংবিধান প্রণয়ন সভার প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। প্রায় ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিনে সংবিধান প্রণয়ন সম্পূর্ণ হয়।
ভারতের গণপরিষদ থেকে ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে এটি গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়। এই দিনেই ভারত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ভারতের সংবিধান বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান, যা ভারতের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
Q2. সংবিধানের প্রস্তাবনা কোন তারিখে গৃহীত হয়?
- (A) ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯
- (B) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
- (C) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
- (D) ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৭
সঠিক উত্তর (A) ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯
ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা সংবিধানের মূল চেতনা ও আদর্শ প্রকাশ করে। এই প্রস্তাবনা গণপরিষদে ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে গৃহীত হয়। সেই দিন পুরো সংবিধান অনুমোদিত হয়েছিল। তবে সংবিধান কার্যকর হয় ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে। প্রস্তাবনায় ভারতকে “সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র” হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের মূল আদর্শ স্থাপন করা হয়।
Q3. ভারতের সংবিধানের প্রথম সংস্করণে মোট কয়টি অনুচ্ছেদ ছিল?
- (A) ৩৯৫
- (B) ৪৪৮
- (C) ৪৬৭
- (D) ২৮৪
সঠিক উত্তর (A) ৩৯৫
ভারতের সংবিধান যখন প্রথম কার্যকর হয় ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে, তখন এতে মোট ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২২টি অংশ ও ৮টি তফসিল ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক সংশোধনের মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ও তফসিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে (২০২5) সংবিধানে ৪70টি অনুচ্ছেদ বা ধারা ও ১২টি তফসিল এবং 25টি পার্ট রয়েছে। প্রথম সংস্করণই ভারতের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রের নীতিনির্দেশক উপাদান নির্ধারণ করে। ভারতের সংবিধানের বৃহত্তম অংশ হল পঞ্চম পার্ট -।
পঞ্চম পার্ট — এই অংশে কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামো, রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ ও বিচারব্যবস্থা,- ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে। সংবিধানের ধারা 52 থেকে 151 পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Q4. বর্তমানে ভারতের সংবিধানে মোট কয়টি ভাগ (Parts) রয়েছে?
- (A) ২০
- (B) ২২
- (C) ২৫
- (D) ৩০
সঠিক উত্তর (C) ২৫
বর্তমানে ভারতের সংবিধানে মোট ২৫টি ভাগ (Parts) রয়েছে। মূল সংবিধানে ছিল ২২টি ভাগ, যা পরে তিনটি নতুন ভাগ সংযোজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভাগগুলো সংবিধানের বিভিন্ন ধারাবলী এবং বিষয়বস্তুকে শ্রেণীবদ্ধ করে রেখেছে। সংবিধান তৈরি ও সংশোধনের মাধ্যমে এই ভাগগুলোর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে । ভারতের আইন ও শাসনব্যবস্থার প্রসারণ কাঠামো একটি উৎকৃষ্টতা নির্দেশ করে।

Q5. ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারাগুলি কোন অংশে (পার্টে ) রয়েছে?
- (A) পার্টে ২
- (C) পার্টে ৩
- (C) পার্টে ৪
- (D) পার্টে ৫
সঠিক উত্তর (C) অংশ ৩
ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারাগুলি সংবিধানের তৃতীয় অংশ (Part–III)-এ অন্তর্ভুক্ত। এই অংশের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১২ থেকে ৩৫ পর্যন্ত ধারাগুলি রয়েছে, যা ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নির্ধারণ করে। এই অধিকারগুলি নাগরিকদের স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
মৌলিক অধিকারগুলো মূলত ছয়টি — সেগুলি হল । সমতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ১৪–১৮), স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ১৯–২২), শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৩–২৪), ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৫–২৮), সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৯–৩০) এবং সাংবিধানিক প্রতিকার লাভের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২–৩৫)।
Q6. আর্টিকেল ৩৭০ কোন রাজ্যের জন্য বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল?
- (A) পাঞ্জাব
- (B) জম্মু ও কাশ্মীর
- (C) গোয়া
- (D) অন্ধ্র প্রদেশ
সঠিক উত্তর (B) জম্মু ও কাশ্মীর
আর্টিকেল ৩৭০ ১৯৪৯ সালে সংবিধানে সংযোজিত হয়েছিল। এটি জম্মু ও কাশ্মীরকে সীমিত স্বায়ত্তশাসন প্রদান করত, যার মধ্যে রাজ্য তার নিজস্ব নাগরিকত্ব, সংবিধান, এবং সরকারি ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারত। ৫ আগস্ট ২০১৯ সালে ভারত সরকার এই ধারা বাতিল করে রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।
Q7. ভারতের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কোন ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করতে পারেন?
- (A) ৫২
- (B) ৭৪
- (C) ৭৫
- (D) 72
সঠিক উত্তর (D) 72
ভারতের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ধারা ৭২ (Article 72) অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা, স্থগিত বা সাজা কমানোর ক্ষমতা রাখেন। এই ধারা রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার আগে বা পরে, এবং এটি মূলত সংবিধানিক ও মানবিক কারণে প্রয়োগ করা হয়।
Article 72-এর আওতায় রাষ্ট্রপতি বিচারপতি বা সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষমা বা স্থগিতাদেশ প্রদান করতে সক্ষম। এটি একটি ভারতের ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
Q8. আর্টিকেল ১৫ কি বিষয়ের উপর আলোচনা করে?
- (A) বর্ণ বৈষম্য বিরোধ
- (B) ধর্মীয় স্বাধীনতা
- (C) শিক্ষা অধিকার
- (D) সভা অধিকার
সঠিক উত্তর (A) বর্ণ বৈষম্য বিরোধ
Article 15 অনুযায়ী ভারত সরকার বা রাজ্য সরকার ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জন্মস্থান বা কোনও সামাজিক বা অর্থনৈতিক ভিত্তিতে নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারবে না। এটি সমতার অধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংবিধান এই ধারার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, রাষ্ট্র কোনো নাগরিককে তার বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ বা জন্মের কারণে ভিন্ন আচরণ করতে পারবে না। পাশাপাশি Article 15 সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

Q9. ভারতের সংবিধানের কোন ধারার মাধ্যমে দেশে “রাষ্ট্রপতি শাসন” জারি করা হয়?
- (A) 352
- (B) 355
- (C) 356
- (D) 360
সঠিক উত্তর (C) 356
ভারতের সংবিধানের ধারা ৩৫৬-এর মাধ্যমে “রাষ্ট্রপতি শাসন” জারি করা হয়। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো রাজ্যে সরকার সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয় অথবা কেন্দ্র সরকার যদি মনে করে হয় যে, সেখানে সাধারণ শাসন ব্যাহত হয়েছে। তখন রাষ্ট্রপতি সেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন আরোপ করতে পারেন।
অর্থাৎ রাজ্য সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্র দ্বারা শাসন কার্যকর করা হয়। এই ধারা মূলত রাজ্যের স্বশাসন সাময়িক ভাবে বাতিল করে কেন্দ্রীয় শাসনের সুযোগ দেয়। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা পালন করে।
Q10. ভারতের সংবিধানের কোন ধারার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়?
- (A) 360
- (B) 363
- (C) 365
- (D) 368
সঠিক উত্তর (D) 368
ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রধান ধারা হলো সংবিধানের ধারা ৩৬৮। এই ধারা সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা প্রদান করে। সংবিধানের সংশোধনীর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে সংশোধনী বিল পাস হতে হয়। সংশোধনী বিল পাস করার জন্য সাধারণত সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয় ।
Q11. ভারতের সংবিধানের শুরুতে কোন বিষয় উল্লেখ রয়েছে?
- (A) নাগরিকত্ব
- (B) শিক্ষা
- (C) কৃষি
- (D) প্রতিরক্ষা
সঠিক উত্তর (A) নাগরিকত্ব
ভারতের সংবিধানে নাগরিকত্ব (Citizenship) বিষয়টি সংবিধানের পার্ট 2 -এ অন্তর্ভুক্ত। এই অংশে নির্ধারণ করা হয়েছে কে ভারতীয় নাগরিক এবং নাগরিকত্ব কীভাবে অর্জন বা হারানো যায়। নাগরিকত্ব অর্জনের উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে – জন্মের মাধ্যমে, মাতাপিতার নাগরিকত্বের মাধ্যমে, এবং অভিবাসনের মাধ্যমে।
এছাড়া সংবিধান নাগরিকত্ব হারানোর বা বাতিল হওয়ার শর্তও নির্ধারণ করে। পার্ট II-এর মাধ্যমে নাগরিকদের পরিচয়, অধিকার এবং দায়িত্বের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের আইন, প্রশাসন এবং সামাজিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
Q12. আর্টিকেল ১৯-এর প্রধান বিষয় কি?
- (A) মৌলিক অধিকার
- (B) নাগরিক অধিকার
- (C) ধর্মীয় স্বাধীনতা
- (D) সরকার গঠন
সঠিক উত্তর (A) মৌলিক অধিকার
ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ১৯ (Article 19) নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে। এই ধারার মাধ্যমে ভারতের নাগরিকরা ছয়টি স্বাধীনতা পেতে পারেন।
যেমন -বাকস্বাধীনতা ও প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা, সমিতি বা সংস্থা গঠনের স্বাধীনতা, দেশের মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতা, যেকোনো জায়গায় বসবাস বা বসতি স্থাপনের স্বাধীনতা, এবং পেশা, ব্যবসা বা চাকরি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা।
Q13. ভারতের রাষ্ট্রপতি কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন কোন ধারার ভিত্তিতে?
- (A) ৭৫
- (B) ৬৫
- (C) ৫২
- (D) ২২৫
সঠিক উত্তর (A) ৭৫
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, ধারা ৭৫ (Article 75) রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ থাকেন এবং রাষ্ট্রপতি চাইলে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে বরখাস্ত করতে পারেন।
১৬৪ ধারা রাজ্যের মন্ত্রিসভার জন্য প্রযোজ্য। এ ধারার মাধ্যমে রাজ্যপাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারেন । তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এই ধারাগুলো সংবিধানিকভাবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে।
Q14. বর্তমানে ভারতের সংবিধানে মোট কয়টি ”তফসিল” রয়েছে ?
- (A) ৮
- (B) ১০
- (C) ১২
- (D) ১৫
সঠিক উত্তর (C) ১২
বর্তমানে ভারতের সংবিধানে মোট ১২টি তফসিল (Schedules) অন্তর্ভুক্ত। সংবিধান প্রণয়নের সময়, ১৯৫০ সালে শুরুতে মোট ৮টি তফসিল ছিল। এগুলি প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলির বিস্তারিত তালিকা হিসেবে কাজ করত।
বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১২টিতে পৌঁছেছে। এই তফসিলগুলোতে রাজ্য ও কেন্দ্রের ক্ষমতা, কর ব্যবস্থা, সরকারি নিয়োগ, সংরক্ষিত উপজাতি ও জনগোষ্ঠী, সরকারি চাকরি, এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিধানগুলো সংকলিত রয়েছে।
Q15. ভারতের “গ্রীন রিভলিউশন” এর মূল উদ্দেশ্য কী?
- (A) কৃষিখাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার
- (B) খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি
- (C) কৃষকদের ঋণ মুকুব
- (D) নতুন কৃষিপণ্য উদ্ভাবন
সঠিক উত্তর (B) খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি
ভারতে “গ্রীন রিভলিউশন” মূলত ১৯৬০-এর দশকে চালু করা হয়। ভারতে সবুজ বিপ্লবের প্রবর্তক ছিলেন ডঃ এম.এস. স্বামীনাথন। এটি শুরু হয়েছিল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্ষুধা নির্মূলের উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে ধান ও গমের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য।
এর প্রভাব হরিয়ানা , পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পরে। “গ্রীন রিভলিউশনের” – মূল নীতি ছিল উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, রসায়নিক সার, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
Q16. GST” (Good and Services Tax) ভারতীয় অর্থনীতিতে কখন প্রবর্তিত হয়?
- (A) ২০১২
- (B) ২০১৭
- (C) ২০১৯
- (D) ২০১৫
সঠিক উত্তর (B) ২০১৭
GST একটি একক অ-পরোক্ষ কর ব্যবস্থা, যা কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরের বিভিন্ন কর (যেমন সেলস ট্যাক্স, সার্ভিস ট্যাক্স, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) একত্রিত করে। এর মাধ্যমে একদেশে একক বাজার তৈরি হয়, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করা হয় এবং ব্যবসা ও শিল্পকে উৎসাহিত করা হয়।
GST-এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দ্বৈত কর ব্যবস্থার জটিলতা কমানো, কর সংগ্রহ বৃদ্ধি করা, এবং ভারতের অর্থনীতিকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করা। ফলে, ১ জুলাই ২০১৭ থেকে ভারতের কর ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে এবং এটি দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

Q17. ভারতের “মেক ইন ইন্ডিয়া” পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী?
- (A) কৃষি উন্নয়ন
- (B) বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ
- (C) শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি
- (D) রফতানি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর (B) বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ
“মেক ইন ইন্ডিয়া” পরিকল্পনা ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চালু হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, এবং দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতকে একটি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ফলে, “মেক ইন ইন্ডিয়া” শুধু শিল্প উন্নয়ন নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উদ্যোগটি ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক চালু করা হয়েছিল।
Q18. ভারতের অর্থনীতিতে “পরিকল্পনা কমিশন” কোনটির জন্য দায়ী ছিল?
- (A) অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ
- (B) বার্ষিক পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন
- (C) কর সংগ্রহ
- (D) মুদ্রা নীতি
সঠিক উত্তর (B) বার্ষিক পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন
ভারতের পরিকল্পনা কমিশন ছিল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য দায়ী একটি সংস্থা। এটি মূলত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলো তৈরি, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের কাজ করতো। পরিকল্পনা কমিশনের কাজ ছিল দেশের সম্পদসমূহকে কিভাবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায় তা নির্ধারণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা।

Q19. ভারতের স্থায়ী আর্থিক প্রবৃদ্ধি পরিমাপের জন্য কোন সূচক ব্যবহৃত হয়?
- (A) GDP
- (B) CPI
- (C) PPI
- (D) WPI
সঠিক উত্তর (A) GDP
ভারতের স্থায়ী আর্থিক প্রবৃদ্ধি পরিমাপের জন্য প্রধান সূচক হলো -মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন GDP – (Gross Domestic Product)। এটি দেশের সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং উৎপাদিত পণ্যের মোট মূল্যকে প্রদর্শন করে এবং দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রবৃদ্ধির প্রধান মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়।
GDP-এর মাধ্যমে বোঝা যায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কতটা স্থায়ী এবং ভারসাম্যপূর্ণ। এছাড়া CPI (Consumer Price Index), PPI (Producer Price Index) এবং WPI (Wholesale Price Index)-এর মতো সূচকগুলো মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্তরের পরিবর্তন পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা হয়।
Q20. দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (2012–2017) প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
- (A) শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের GDP দ্বিগুণ করা
- (B) সামাজিক সুরক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাস
- (C) সমন্বিত বৃদ্ধি অর্জন করা
- (D) শুধুমাত্র কৃষি খাত উন্নত করা
সঠিক উত্তর (C) সমন্বিত বৃদ্ধি অর্জন করা
ভারতের দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (2012–2017) এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল “সমন্বিত বৃদ্ধি” (Inclusive Growth) অর্জন করা। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি শুধুমাত্র উচ্চ আয়ের শ্রেণীর জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরও উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এই দ্বাদশ পরিকল্পনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সমগ্র দেশের মানুষ অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা পায়। এছাড়া, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাও পরিকল্পনার অংশ ছিল। সংক্ষেপে, দ্বাদশ পরিকল্পনার মূল নীতি হলো অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সমন্বয়।
Conclusion :
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষা শুধুমাত্র একটি চাকরির সুযোগ নয়, এটি সাহস, দায়বদ্ধতা ও সেবা মানসিকতার প্রতিফলন। সঠিক প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে কেউ এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। মনে রাখো, “পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি”, তাই আজই শুরু করো, স্বপ্নের পুলিশের পোশাক গায়ে চাপানোর জন্য প্রস্তুতি নাও এবং নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দাও।



