Latest West Bengal geography question 2025

Latest West Bengal geography question 2025

Introduction :

ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরি অর্জন করা কঠিন মনে হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি সম্ভব। প্রথমে আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন—IAS, WBCS, SSC, Banking, WBP, KP বা Teaching Exams। প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা, মক টেস্ট, প্রিভিয়াস ইয়ার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার আপনাকে এগিয়ে রাখবে।Latest West Bengal geography question 2025 ভুগোল, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত আপডেটেড তথ্য মনে রাখুন। ধৈর্য্য, অধ্যবসায় এবং নিজের উপর বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন—সফলতা আপনারই হবে।

Q1. পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম নদী কোনটি?

  • (A) গঙ্গা
  • (B) দামোদর
  • (C) তিস্তা
  • (D) মহানন্দা

সঠিক উত্তর (A) গঙ্গা

পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম নদী হলো গঙ্গা। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫২০ কিলোমিটার রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। যার রাজ্যের ভিতরে প্রবাহিত অংশকে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থা বলা হয়। এই নদী পশ্চিমবঙ্গের ‘জীবন শক্তি’ হিসেবে পরিচিত।

গঙ্গার তীরে অবস্থিত প্রধান শহরগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, নবদ্বীপ, চন্দননগর, শ্রীরামপুর ও হালিশহর। গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে। নদীর জল সেচের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বন্দরনগর কলকাতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও পরিচালিত হয়। ফলে গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

Q2. তিস্তা নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে?

    • (A) নেপাল
    • (B) ভুটান
    • (C) সিকিম
    • (D) অরুণাচল প্রদেশ

    সঠিক উত্তর (C) সিকিম

    তিস্তা নদী হিমালয়ের জেমু হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নদীটি মূলত কালিম্পং, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা অতিক্রম করে। তিস্তার তীরে অবস্থিত প্রধান শহর হলো জলপাইগুড়ি, এছাড়াও মালবাজার ও ময়নাগুড়ি মেখলিগঞ্জ নদীর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র।

    তিস্তার জল উত্তরবঙ্গের কৃষির প্রাণ—ধান, ভুট্টা, চা ও সবজি উৎপাদনে এটি অপরিহার্য। পাশাপাশি, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। নদীর জলসম্পদ ও পরিবহন ব্যবস্থা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

    Q3. ফরাক্কা বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?

    • (A) গঙ্গা
    • (B) হুগলি
    • (C) দামোদর
    • (D) সুবর্ণরেখা

    সঠিক উত্তর (A) গঙ্গা

    ফরাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় নির্মিত। ফরাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ ১৯৬১ সালে শুরু হয়ে ১৯৭৫ সালে সমাপ্ত হয় এবং ২১ এপ্রিল ১৯৭৫ থেকে এটি চালু হয়।

    এই বাঁধ প্রায় ২,২৪০ মিটার (৭,৩৫০ ফুট) লম্বা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় যেত প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ব্যয় দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। ফরাক্কা বাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গা নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধি করা। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর একটি ৩০ বছরের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেই চুক্তি 2025 সালে সমাপ্ত হয়।

    Q4. পশ্চিমবঙ্গে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর কোন বাঁধটি অবস্থিত?

    • (A) কানহার বাঁধ
    • (B) ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম
    • (C) সেবক ড্যাম
    • (D) তিলপাড়া ব্যারেজ

    সঠিক উত্তর (D) তিলপাড়া ব্যারেজ

    “ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম” ময়ূরাক্ষী নদীর উপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ, যা ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার কাছাকাছি অবস্থান করে। এটি ১৯৫৫ সালে চালু হয়েছিল এবং মূলত কানাডার সহায়তায় নির্মিত হওয়ায় “কানাডা ড্যাম” নামেও পরিচিত। এই বাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং হাইড্রোপাওয়ার তৈরি করা।     

       সিউড়ীর তিলপাড়া ব্যারেজ ১৯৪৯ সালে নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং সেদিন থেকে এটি কার্যকর হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ। ব্যারেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০৯ মিটার এবং এটি কৃষি সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    Latest West Bengal geography question 2025
    Q5. বাগলিহার হাইডেল প্রজেক্ট কোন নদীর উপর দেওয়া হয়েছে?
    • (A) শতদ্রু
    • (B) চেনাব
    • (C) রায়চেরা
    • (D) ব্রহ্মপুত্র

    সঠিক উত্তর (B) চেনাব

      বিখ্যাত “বাগলিহার হাইডেল প্রকল্প” চেনাব নদীর উপর নির্মিত। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রানের অফ দ্য রিভার হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প। বাগলিহার ড্যামের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৯০০ মেগাওয়াট, যা দুই পর্যায়ে ভাগ করে তৈরি।  প্রথম ধাপ ২০০৮ সালে ও দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬ সালে সম্পন্ন হয়।

    এই প্রকল্প ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উন্নয়নের অংশ এবং চেনাব নদীর জল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বাগলিহার প্রকল্পের কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে জল সম্পদ বণ্টন সংক্রান্ত বিতর্কও সৃষ্টি হয়।

    Q6. দার্জিলিং পাহাড় কোন পর্বতমালার অংশ?
    • (A) আরাবল্লী
    • (B) পূর্বঘাট
    • (C) হিমালয়
    • (D) বিন্ধ্য

    সঠিক উত্তর (C) হিমালয়

    দার্জিলিং পূর্ব হিমালয় পর্বতমালার অংশ, যাকে দার্জিলিং হিমালয় বা দার্জিলিং পাহাড় নামে পরিচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং এখানে সিংগালিলা ও দার্জিলিং পর্বতশ্রেণী রয়েছে। দার্জিলিং অঞ্চলের পাহাড়গুলো উচ্চ এবং প্রায়শই চারপাশের উপত্যকা ও নদনদীর সাথে মিশ্রিত খাড়া ঢাল এবং প্রস্তরময় ভূমিতে গঠিত। সিংগালিলা ভারতকে নেপাল থেকে আলাদা করেছে।

    এখানকার জনপ্রিয় শৃঙ্গগুলোর মধ্যে সান্দকফু (৩,৬৩০ মিটার) সবচেয়ে উচ্চ, যা পশ্চিমবঙ্গ ও দার্জিলিংয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। দার্জিলিং হিমালয় তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা বাগান ও হিমালয়ান রেলের জন্য খ্যাত।

    Q7. ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় দেখা যায়?

    • (A) বীরভূম
    • (B) পুরুলিয়া
    • (C) মুর্শিদাবাদ
    • (D) বর্ধমান

    সঠিক উত্তর (B) পুরুলিয়া

    ছোটনাগপুর মালভূমির পশ্চিমবঙ্গ অংশ প্রধানত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় বিস্তার করেছে। এই অঞ্চল পাহাড়ি এবং উঁচু-নিচু ভূমির সমন্বয়ে গঠিত। এখানে কয়লা, লোহা, চুনাপাথরসহ বিভিন্ন খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে এ অঞ্চল গোষ্ঠীগত উপজাতি ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল।

    বর্তমানেও এ অঞ্চলের অর্থনীতি কৃষি, বনসম্পদ ও খনিজশিল্পের ওপর নির্ভরশীল।পশ্চিমবঙ্গের ছোটনাগপুর অংশ যেমন পুরুলিয়া, বীরভূম ও বর্ধমান জেলায় কয়লা, লোহা আকরিক, ম্যাঙ্গানিজ, বক্সাইট, তামা, চুনাপাথর ইত্যাদি খনিজ প্রাচুর্য রয়েছে। রানীগঞ্জ কয়লা ক্ষেত্র এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কয়লা খনি। এই খনিজ গুলো শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনীতিতে প্রধান অবদান রাখে।

    Q8. পশ্চিমবঙ্গের কোন নদী “বাংলার বিষখালী” নামে পরিচিত?

    • (A) দামোদর
    • (B) গঙ্গা
    • (C) আত্রাই
    • (D) মহানন্দা

    সঠিক উত্তর (A) দামোদর

     বিখ্যাত বিষখালী নদী মূলত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি ও বরগুনা অঞ্চলের একটি নদী, যা কীর্তনখোলা নদীর একটি উপনদী হিসেবে পরিচিত এবং বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। বাংলাদেশের এই নদীতে অনেক নৌচালক বর্ষার জলে তলিয়ে গেছে। বর্ষাকালে এই নদীর রূপ ভয়ানক হয়ে উঠে। বাংলাদেশের অনেক জীব জন্তুর সহ মানুষ ও বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল একসময় । এই নদী পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় নৌকা ডুবে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে ; সেই সময় থেকে এই নদীর নাম হয় বিষখালি।  

      পশ্চিমবঙ্গের দামোদর নদী “বাংলার দুঃখ” নামে পরিচিত। এর প্রধান কারণ হলো অতীতে বর্ষাকালে দামোদর নদীর বন্যা প্রায়ই খুব ভয়াবহ আকার নিত, যা সমভূমির এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি করত। এই বন্যার ফলে অনেক ফসল নষ্ট হতো, বাড়িঘর ভেসে যেত এবং মানুষ জীবনযাত্রায় বিপর্যস্ত হতো এই কারণে দামোদরকে অনেক সময় পশ্চিম বাংলার বিষখালী নামে ডাকা হয়।

    Latest West Bengal geography question 2025

    Q9. দামোদর নদীর উপর তৈরি ড্যামগুলির মধ্যে কোনটি প্রধান?

    • (A) পানাগড়
    • (B) মাইথন
    • (C) চেতুলি
    • (D) সিঙ্গুর

    সঠিক উত্তর (B) মাইথন

    দামোদর নদীর উপর প্রধান বাঁধটি হলো দুর্গাপুর বাঁধ। এছাড়াও দামোদর উপত্যকা প্রকল্পের অধীনে দামোদরের বিভিন্ন উপনদী যেমন বরাকর ও কোনার নদীর ওপর তিলাইয়া, মাইথন, পাঞ্চেত এবং কোনারে বিভিন্ন বাঁধ নির্মিত হয়েছে। দুর্গাপুর বাঁধ ১৯৫৫ সালে নির্মিত হয় এবং এটি নদীর দুই ধারে অবস্থিত অন্যান্য খাল ও নদীগুলিতে সেচের জন্য জল সরবরাহ করে। মোট মিলিয়ে দামোদর নদীর উপর এই বাঁধগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মাইথন বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় ১৯৫৫ সালে এবং শেষ হয় ১৯৫৭ সালে। এটি ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে মাইথনে বরাকর নদীর উপর নির্মিত হয়েছে। এই বাঁধ প্রধানত বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত হয়েছিল

    Q10. পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প অবস্থিত?
    • (A) কুচবিহার
    • (B) জলপাইগুড়ি
    • (C) মালবাজার
    • (D) রাজগঞ্জ

    সঠিক উত্তর (B) জলপাইগুড়ি

    গজলডোবা ব্যারেজ ১৯৯৮ সালে তিস্তা নদীর ভারতের ভাগে স্থাপিত হয়। এটি জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ সিডি ব্লকের গজলডোবা গ্রামে অবস্থিত। গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে নদীর জল বিভিন্ন খাতে পুনর্বাহিত করা হয়।

    বিশেষ করে তিস্তার পানি তিস্তা-মহানন্দা খালে প্রবাহিত করা হয়, যা জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহে সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্যারেজে ৪৫টি ফটক রয়েছে যা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    Q11. সুন্দরবনের বনাঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ কোনটি?

    • (A) বাবলা
    • (B) সুন্দরী
    • (C) তাল
    • (D) বনরুই

    সঠিক উত্তর (B) সুন্দরী

    সুন্দরবন বনাঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। এটি একটি চিরসবুজ ম্যানগ্রোভ গাছ এবং ধারণা করা হয় যে সুন্দরবনের নাম এরই থেকে এসেছে। এই গাছের কাঠ অত্যন্ত টেকসই, মজবুত ও ভারী হওয়ার কারণে সাঁকো, নৌকা, আসবাবপত্র, ঘরের খুঁটি এবং বৈদ্যুতিক পিলার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    এছাড়াও সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ অন্য গাছের মধ্যে গেওয়া, গরান  এবং কেওড়া উল্লেখযোগ্য। এই বনাঞ্চল মূলত লবণাক্ত জলের সাথে মানিয়ে নেওয়া ম্যানগ্রোভ গাছের জন্য বিখ্যাত।

    Q12. পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বৃহত্তম ডেল্টা অঞ্চল কোনটি?

    • (A) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ডেল্টা
    • (B) সুখদ্বীপ ডেল্টা
    • (C) মহানন্দা ডেল্টা
    • (D) গোদাবরী ডেল্টা

    সঠিক উত্তর (A) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ডেল্টা

    সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সবচেয়ে বৃহত্তম ডেল্টা অঞ্চল। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর মিলনে গঠিত সুন্দরবন ডেল্টা ১০,২০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলের অধিকাংশ অংশ বাংলাদেশের মধ্যে থাকলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার স্থান দখল করে রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বৃহত্তম ডেল্টা অঞ্চল হলো সুন্দরবন (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ডেল্টা)। এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বেরও বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যর জন্য সুন্দরবন ডেল্টা বিশ্ববিখ্যাত।

    এখানে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সহ বহু বহুমূল্য প্রাণী ও উদ্ভিদ বাস করে। সুন্দরবন অঞ্চলে নদী, খাল, দ্বীপ ও কাদা উপকূল ছাড়াও প্রতি বছর বন্যা ও পরিবেশ পরিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করা যায়। সুন্দরবন ডেল্টা জলবায়ু পরিবর্তন ও মানব কার্যকলাপের জন্য একটি অতি সংবেদনশীল ভৌগোলিক এলাকা।

    Latest West Bengal geography question 2025

    Q13. পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় বৃহত্তম কয়লা খনি অবস্থিত?

    • (A) মেদিনীপুর
    • (B) পশ্চিম বর্ধমান
    • (C) জলপাইগুড়ি
    • (D) নদিয়া

    সঠিক উত্তর (B) পশ্চিম বর্ধমান

    পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম কয়লা খনি রানীগঞ্জ কয়লা ক্ষেত্র, যা প্রধানত পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বিস্তৃত। রানীগঞ্জ কয়লা ক্ষেত্র ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম কয়লা উত্তোলন কেন্দ্র । এই খনি এলাকা রাজ্যের শিল্প এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    কয়লা খনিগুলি প্রধানত বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইস্পাত এবং অন্যান্য শিল্পের জন্য অপরিহার্য। ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে এখানকার কয়লার খনন শুরু হয়, যা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাই পশ্চিম বর্ধমান জেলাই রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়লা উৎপাদন এলাকা।

    Q14. ঝাড়গ্রাম জেলা প্রধানত কোন ধরনের ভূপ্রকৃতি নিয়ে গঠিত?

    • (A) সমভূমি
    • (B) মালভূমি
    • (C) পাহাড়ি এলাকা
    • (D) উপকূলীয় অঞ্চল

    সঠিক উত্তর (B) মালভূমি

    ঝাড়গ্রাম জেলা প্রধানত ছোটনাগপুর মালভূমির পশ্চিম অংশে অবস্থিত এবং এর ভূপ্রকৃতি মূলত ধীরেধীরে ঢালু লাইটেরাইট শিলা ও মাটির সমতল ক্ষেত্র নিয়ে গঠিত। জেলার পশ্চিম দিকে কিছু পাহাড়ি এলাকা আছে, বিশেষত উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে, যেখানে সর্বোচ্চ পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ৩৭০ মিটার।

    জেলার পূর্ব দিকে সমভূমির সঙ্গে ঢালু মিশ্রিত। ঝাড়গ্রামের ভূপ্রকৃতি খরা প্রবণ এবং এটি একটি মৃদু ঢালু অঞ্চল, যা ছোটনাগপুর প্লেটোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম জেলায় বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রের জন্য বিখ্যাত বনাঞ্চল রয়েছে।

    Q15. পশ্চিমবঙ্গের কোন রাজ্যের সঙ্গে সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত রয়েছে?
    • (A) ওড়িশা
    • (B) বিহার
    • (C) ঝাড়খণ্ড
    • (D) আসাম

    সঠিক উত্তর (C) ঝাড়খণ্ড

    পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সঙ্গে রয়েছে। ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমানার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের সঙ্গে, যা প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার লম্বা। ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত ভাগ করে নিচ্ছে।

    Q16. বিখ্যাত রায়ডাক নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কোন দেশে অবস্থিত?
    • (A) নেপাল
    • (B) ভুটান
    • (C) বাংলাদেশ
    • (D) ভারত

    সঠিক উত্তর (B) ভুটান

    পশ্চিমবঙ্গের রায়ডাক নদী প্রধানত আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম এলাকায় প্রবাহিত হয়। এটি ভুটান থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে এই নদীর উপর পশ্চিমবঙ্গের কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত নয়।

    তবে ভুটানের চুকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রায়ডাক নদীর উপর নির্মিত, যা ৩৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। প্রকল্পের ৬০% খরচ ভারত সরকারের অনুদান এবং ৪০% ঋণের মাধ্যমে নির্মিত হয়। ভবিষ্যতে রায়ডাক নদীর পানির প্রবাহ ও ভূগোল বিবেচনা করে ছোট আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এলাকায় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

    Latest West Bengal geography question 2025

    Q17. পশ্চিমবঙ্গে প্রধান মাটির ধরন কোনটি?

    • (A) কালো মাটি
    • (B) লাল মাটি
    • (C) পলিমাটি
    • (D) বেলে মাটি

    সঠিক উত্তর (C) পলিমাটি

    পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মাটির ধরন হলো পলিমাটি (Alluvial soil), যা গঙ্গা সমভূমির বেশিরভাগ অংশে বিস্তৃত। এই মাটি উর্বর এবং পটাশ ও চুনে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

    এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite soil), লাল মাটি, এবং উপকূলীয় বালুকাময় মাটিও পাওয়া যায়। ল্যাটেরাইট মাটি মূলত মালভূমি ও পার্বত্য অঞ্চলে বিস্তৃত, যেখানে চা চাষের জন্য এটি উপযুক্ত। সুন্দরবনে লবণাক্ত মাটি দেখা যায়, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

    Q18. বীরভূম জেলার মধ্য দিয়ে কোন নদী প্রবাহিত?
    • (A) আত্রাই
    • (B) ময়ূরাক্ষী
    • (C) রূপনারায়ণ
    • (D) তোরাই

    সঠিক উত্তর (B) ময়ূরাক্ষী

    ময়ূরাক্ষী নদী জেলার কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কৃষির জন্য সেচের প্রধান উৎস এবং পুষ্টিকর নদীর মাটি উপকৃত করে। নদীটির তীরে শহর ও গ্রাম গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ময়ূরাক্ষী নদীর উপনদী ও শাখানদীগুলি বীরভূমের বিভিন্ন অংশে সেচ, মাছ চাষ এবং জল পরিবহণে সহায়ক। নদীটির নিয়মিত প্রবাহ জেলা ও আশেপাশের এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

    Q19. কালিম্পং শহর কোন পর্বতের ওপর অবস্থিত?
    • (A) দূরবীন দ্বারা
    • (B) দুয়ার্স পাহাড়
    • (C) শিবালিক
    • (D) সিঙ্গালীলা

    সঠিক উত্তর (C) শিবালিক

    কালিম্পং শহর শিবালিক পর্বতশ্রেণির এক শৈলশিরার ওপর অবস্থিত। শহরটি তিস্তা নদীর পশ্চিম পাশে ডেলো পাহাড় এবং দুরপিনদারা পাহাড়ের মধ্যে সংযুক্ত একটি উপত্যকায় রয়েছে। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা প্রায় ১,২৫০ মিটার (৪,১০১ ফুট) এবং এটি শিবালিক পর্বতের অংশ হিসেবে পরিচিত।

    Q20. পশ্চিমবঙ্গে প্রধানভাবে উৎপাদিত খনিজ পদার্থ কোনটি?

    • (A) সোনা
    • (B) লোহা
    • (C) কয়লা
    • (D) তামা

    সঠিক উত্তর (C) কয়লা

    পশ্চিমবঙ্গের প্রধানভাবে উৎপাদিত খনিজ পদার্থ হলো কয়লা, যা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সম্পদ। এছাড়া মুখ্য খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে আকরিক লোহা, চুনাপাথর, ডলোমাইট, অ্যাপেটাইট, তামা, ম্যাঙ্গানিজ এবং গ্রাফাইট।

    রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই খনিজগুলি উৎপাদিত হয়, যেমন রানীগঞ্জ, বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং। কয়লা প্রধানত পশ্চিমবর্ধমান, বীরভূম, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া এবং দার্জিলিং জেলায় পাওয়া যায়।

    Q21. দার্জিলিং হিমালয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?

    • (A) কাঞ্চনজঙ্ঘা
    • (B) কালিম্পং
    • (C) টাংলু
    • (D) গোর্খা হিল

    সঠিক উত্তর (A) কাঞ্চনজঙ্ঘা

    দার্জিলিং হিমালয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা, যার উচ্চতা প্রায় ৮,৫৯৮ মিটার (২৮,২০৭ ফুট)। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে বিখ্যাত। কাঞ্চনজঙ্ঘা দার্জিলিং হিমালয়ের প্রধান আকর্ষণ এবং পরিষ্কার দিনে শহর থেকে দৃশ্যমান হয়।

    Leave a Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Scroll to Top